রাজনীতির টুপি

গান্ধী, নেহেরু, জিন্নাহ, ভাসানী – প্রত্যেকেরই ছিল ট্রেডমার্ক টুপি। ধরনে-গড়নে আলাদা এসব টুপি শুধু ব্যক্তির পোশাক বা অভিরুচিতে সীমাবন্ধ থাকেনি। কখনো কখনো এসব টুপি হয়ে উঠেছে দল, ধর্ম, গোষ্ঠী বা জাতিবাদের প্রতীক।

রাজনীতির টুপি

প্রাত্যহিক জীবনে খুব একটা মনোযোগী না হলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে এই দেশের প্রার্থীরা ধর্মেকর্মে খুব মনোযোগী হয়ে উঠেন। ভোটারদের কাছে নিজেদের ধর্মপ্রাণতার একটা যুৎসই ইমেজ তৈরি করার জন্য তাদের প্রায় মরিয়া হয়ে উঠতে দেখা যায়। নিয়ম করে ধর্ম করুন বা না করুন, ভোট উপলক্ষে নিদেনপক্ষে এমন একটা দেখনদারি চিত্র তারা হাজির করতে চান, যেটা দেখে ভোটাররা যেন প্রার্থীকে যথেষ্ট ধার্মিক বা ধর্মপ্রাণ জ্ঞান করেন। দুটো বাড়তি ভোটের আশায় তারা নির্বাচনকালীন নিজেদের পোশাকে আনেন চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন। বিশেষ করে প্রার্থীদের মাথায় হঠাৎ করেই ভোটাররা আবিষ্কার করেন টুপি’র উপস্থিতি। যেহেতু বাংলাদেশে টুপি একটা ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে বেশ প্রচলিত পরিধেয়, সেহেতু টুপিই হয়ে উঠে দেখনদারি চেহারা তৈরির অন্যতম একটা অনুসঙ্গ।

টুপির আলাপটা হঠাৎ করে আসেনি। বরং হঠাৎ করে ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিও, যেটা নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে বেশ একটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে আলাপের সূত্রপাত। আমরা হাস্যরসের বাইরে এ ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যটাও বোঝার চেষ্টা করবো।

সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে — টুপি পরিহিত অবস্থায় তিনি ভোটের গণসংযোগ করছেন এবং এক ভোটার তাকে প্রশ্ন করে বসেছেন, “এই যে আপনি নির্বাচনের কারণে টুপি পরছেন, এতদিন তো আপনার মাথায় টুপি ছিল না”। এ প্রশ্নের পর অনেকটা অপ্রস্তুত হতে দেখা গেছে পাটওয়ারীকে। উত্তরে জানালেন, তিনি এক সময় মাদরাসায় পড়েছেন। প্রশ্নকারী সন্তুষ্ট হলেন না। উল্টো বলে বসেন, “আপনি মাদ্রাসায় পড়েছেন, আমি মাদ্রাসায় পড়িনাই?”

ভাইরাল ভিডিওতে তর্কটা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তবে, বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে টুপির ব্যবহারের প্রশ্নটা আদতেই কি অমীমাংসিত? এর সামাজিক ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব কি আমাদের একদমই অজানা? বোধ করি না। পাটওয়ারীর ভাইরাল ভিডিওটির ভোটারের মতো সাধারণ মানুষ বিষয়গুলোকে খুব স্পর্শকাতরভাবেই চিহ্নিত করেন। কেউ প্রকাশ্যে বলেন, হয়তো কেউ বলেন না।

বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে প্রার্থীদের মাথায় ভোটের টুপি ওঠার রেওয়াজটা রীতিমতো প্রথা হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ হিসেবে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী এবং তাদের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া অনেক নেতাকর্মীর মাথায় তো টুপি থাকছেই। এ নিয়ে কথা হয়তো কমই উঠছে। কিন্তু পুরনো বন্দোবস্ত ভেঙে নতুন বন্দোবস্তের ধ্বজা উড়ানো নবীন রাজনীতিবিদেরা এ প্রথায় মাথা পেতে দেবেন কি না, সে প্রশ্নও ভোটারদের মধ্যে উঠতে পারে। চলমান নির্বাচনী ময়দানে নবীনদের মধ্যে শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির সারজিস আলমসহ দলটির আরও অনেকের মাথায়ও উঠেছে ভোটের টুপি। নবীন প্রার্থীদের মাথায় পুরনো প্রথার চিহ্ন, সেটা টুপি হোক বা হিজাব— তার উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার দেখতে পেলে ভোটাররা প্রকাশ্য বা গোপনে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন, এটা অনুমান করে রাখাই উত্তম।

Noto Serif Bangla Bold
দুই.

বাংলাদেশ নয় শুধু, এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে নানা পর্বে নানাভাবে টুপি হাজির আছে। বলা যায়, নানা মতের নানান টুপি। নিছক পোশাক হিসেবেই নয়, একেক টুপি একেক ধরনের মতবাদের প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে ইতিহাসে। প্রেক্ষাপট, সমাজ এবং সময়ভেদে টুপিও নির্মাণ করেছে রাজনৈতিক পরিভাষা।

জিন্নাহ থেকে ভাসানী, নেতাজি থেকে গান্ধী, সবারই নিজেদের ট্রেডমার্ক টুপি ছিল। ছিল আলাদা মত, পথ ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। ফলে অন্যান্য পোশাকের মতো এটিকে খুব নীরিহ পোশাক ভাবার সুযোগ নেই। মুসলিম জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক এই টুপি শুধু মুসলিম নয়, অন্য ধর্মের পরিধেয় সংস্কৃতিতেও রয়েছে এর বিস্তর ব্যবহার।

মুসলিমদের বিশ্বাসমতে টুপি পরা সুন্নত। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অনেকেই স্রেফ ফ্যাশন হিসেবে পরতেন টুপি। খন্দকার মোশতাক টুপি পরতেন, টুপি পরতেন গোলাম আযমও। আওয়ামীলীগের অধ্যক্ষ মতিউর রহমানও টুপি পরেন, বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায়েরও আছে ট্রেডমার্ক টুপি। আর ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীদের টুপি পরার বিষয়টি তো তাদের আকিদারই অংশ, ক্ষেত্রবিশেষে রাজনীতিরও।

কিন্তু কথা হলো, নির্বাচনের আগে হঠাৎ টুপি পরার মনস্তত্ত্ব কি?

বিগত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের এমপি (একইসঙ্গে প্রার্থী) ডাক্তার মুরাদকে দেখা গেছে টুপি পরে ঘুরতে। ১৯৯৬-এর ইলেকশনে শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছিলেন হিজাব পরে। সে হিজাবের প্রভাব ভোটের মাঠে অনেকটাই পড়েছে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগের বামপন্থী মিত্র ইনু-মেননরা, যারা বস্তুবাদী দর্শনের অনুসারী বলে পরিচিতি, এক বছর তো তাদেরই দেখা গেলে হজব্রত পালন করতে। এবার সেই পথের তরুণ তুর্কি হলেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমরা।

ভাসানী টুপি, জিন্নাহ টুপি, নেপালি, পাঁচ কলি, আর গোল টুপি— এরকম হরেক টুপি হরেক রকমের পরিচয় বহনকারী মাধ্যম। জিন্নাহ টুপির কথাই ধরা যাক। এই টুপি মধ্য এশিয়ার বিশেষ ভেড়া কারাকুলের পশম দিয়ে তৈরি বলে এটির নাম কারাকুল টুপি। জিন্নাহ এই টুপিকে এতোটা প্রসিদ্ধ করে তুলেছিলেন যে, পরবর্তীতে এটি জিন্নাহ টুপি নামেই পরিচিতি লাভ করে। বাংলায় গোলাম আযমও এই টুপি পরতেন এবং তিনিও এটিকে এমনভাবে প্রসিদ্ধ করেন যে, বাংলাদেশে এই টুপি মাথায় তুলতেই অনেকে বিব্রতবোধ করেন।

মুসলিম লীগে যোগ দেওয়ার আগে মোহম্মদ আলী জিন্নাহকে খুব একটা টুপি পরতে দেখা যায়নি। তবে ১৯৩৭-এর নির্বাচনের পর জিন্নাহ কারাকুল টুপি পরা শুরু করেন। বিশেষ করে মুসলিম লীগের ২৫তম অধিবেশনে কারাকুল টুপি পরে উপস্থিত হলে জিন্নাহ'র টুপি সভার সকলের নজর কাড়ে। গান্ধী টুপি যেমন গত শতাব্দীর ২০-এর দশকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলো, ঠিক তেমনি জিন্নাহ’র টুপিও মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রতীকে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলো। যদিও বিশেষ ভেড়ার পশম দিয়ে বানানো এ টুপি সে সময় ছিলো বেশ দামি। উচ্চমূল্যের কারণে সকলের পরার সাধ্য ছিলো না।

সেদিক থেকে গান্ধী টুপি ছিলো সাধাসিধে খাদি কাপড়ের, ঘরে তৈরি করা যায়, এমন। পরবর্তীতে এটি হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। ইতিহাসবিদদের মতে, গান্ধী পরিহিত এই টুপির সূচনা হয়েছিলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে, দক্ষিণ আফ্রিকায়, গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের গোড়ার দিকে। গান্ধীসহ ভারতীয় বন্দীদের আফ্রিকানদের মতো পোশাকবিধি মেনে চলতে বাধ্য করা হতো, যার মধ্যে ছিল এই ধরনের টুপি, যেটিকে পরবর্তীতে গান্ধী নিজের পরিচয়ের অংশ করে নেন। গত শতাব্দীর ২০-এর দশকের শুরুতে সর্বভারতের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে দেদারসে গান্ধী টুপি বিক্রি হতে থাকে, যা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে রীতিমত ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

ইতিহাসবিদ লতা সিং এর ভাষ্যে, “ব্রিটিশরা গান্ধী টুপি পরিহিতদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে— সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা, জরিমানা করা, এমনকি কখনো কখনো শারীরিকভাবে নিগ্রহও করা হতো।”

ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়া গান্ধী টুপির একটি সুলভ সংস্করণ পরতেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। অপরদিকে গান্ধী টুপির বিপরীতে একটি প্রতীকী ভাষ্য হিসেবে কারাকুল টুপি হয়ে উঠেছিলো মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রতীক। সেকুলার জিন্নাহ কারাকুল টুপি পরার বছরই কায়েদ-এ আজম উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৩৭-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগ ভালো ফল করতে পারেনি। কিন্তু ৪৬-এর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আইনসভার সকল মুসলিম আসন মুসলিম লীগ জিতেছিল এবং প্রাদেশিক আইন সভাগুলোর ৪৯৫ মুসলিম আসনের মধ্যে ৪৪৬টি আসন লাভ করে দলটি।

জনপ্রিয়তার রাজনীতিতে পোশাকের গুরুত্ব যে অস্বীকার করার উপায় নেই, সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠে গান্ধী এবং জিন্নাহ টুপির মধ্য দিয়ে। রাজনীতির মাঠে স্রেফ একটা টুপির এই বিশেষ সুবিধার ব্যাপারটি সেকুলার জিন্নাহ সাহেবও ধরতে পেরেছিলেন।

অপরদিকে, ভাসানী টুপি ছিল কাদেরিয়া তরিকার টুপি। মওলানা সাহেব এটাকে জনপ্রিয় করে তোলায় এটি ভাসানী টুপি হিসেবেই পরিচিতি লাভ করে। তাল গাছের আঁশ দিয়ে বানানো এ টুপি গ্রাম-বাংলার কুটির শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় তিনি মুসলিম লীগের প্রাদেশিক সভাপতি ছিলেন। ওই সময় মুসলিম লীগের নেতামাত্রই জিন্নাহ টুপি পরতেন। কিন্তু ভাসানী কখনো জিন্নাহ টুপি পরেননি। বরং চল্লিশের দশকের শেষ দিক পর্যন্ত তিনি সাদা সুতার কিস্তি টুপি ব্যবহার করতেন। তার অন্যতম জীবনীকার সৈয়দ ইরফানুল বারীর বই থেকে জানা যায়, বরিশালের গৌরনদীর এক দরিদ্র পরিবারে গৃহস্থ নারীকে তাল গাছের আঁশের টুপি বুনতে দেখে সে নারীর (তার মতো অনেক নারীরও) শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার চিন্তা থেকে ভাসানী তালের আঁশের টুপি পরা শুরু করেন। পরবর্তীতে ভাসানী টুপি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, কম দামের সহজলভ্য এ টুপির বিক্রি ও ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল সামাজিক পরিসরে।

Noto Serif Bangla Bold
তিন.

টুপি বা পোশাকের রাজনীতি শুধু উপমহাদেশেই নয়, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরূপে এবং ভিন্ন ভিন্ন পোশাকের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এমন কি বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর পরিচয়বাদী রাজনীতির অনুসঙ্গ হিসেবেও টুপির ব্যবহার বহুল আদৃত।

আমরা নেপালি টুপি সম্পর্কে জানি। ঢাকা থেকে আমদানিকৃত কাপড়ে এ টুপি তৈরি হতো বলে এটাকে ঢাকা টুপিও বলা হয়। মাত্র কয়েক দশকে এই টুপি নেপালি জাতীয়তার প্রতীক হয়ে উঠে এবং সে দেশের জনগণের জাতীয় পোশাকের অংশ হয়ে উঠে। জানা যায়, ১৯৫৫ থেকে ১৯৭২ সাল, রাজা মহেন্দ্র বীরবিক্রম শাহ দেবের শাসনামলে এই টুপি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই টুপি ছাড়া একজন নেপালি নাগরিককে অনেকে কল্পনাও করতে পারেন না।

যা হোক, পরিচয়বাদী রাজনীতিতে টুপির ব্যবহার বা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠার ক্ষেত্রে টুপি একটা বড় অনুসঙ্গ হিসেবে হাজির হয়েছে বারবার। টুপি শুধু মুসলমানদের পরিধেয় নয়, ধার্মিক ইহুদিরা কিপ্পা নামের এক ধরনের ছোট টুপি ব্যবহার করেন। খ্রিস্টান পাদ্রিরা, বিশেষ করে পোপদেরও দেখা যায় মাথার তালুতে এক ধরনে টুপি পরতে। কয়েক হাজার বছর পূর্বের জরথুস্ট্র ধর্মের দেবতা আহুরে মাজদার মাথায়ও টুপি বা মুকুট দেখা যায়।

পরিচয়বাদী বা প্রতীকবাদী রাজনীতি, যা-ই বলি না কেন, শতাব্দী থেকে শতাব্দী, যুগ থেকে যুগ, এভাবে বিভিন্ন জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতীক থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ব্যবহৃত পোশাক-আইকনে পরিণত হয়েছে টুপি। আঞ্চলিকতা, ধর্ম, বিশ্বাস, জাতিবাদের নমুনা হিসেবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী প্রতীক হিসেবেও হাজির হয়েছে টুপি। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টুপি বেশিরভাগই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তুরস্কের দ্বিতীয় সুলতান মাহমুদ ক্ষমতায় এসে ১৮২৯ সালের দিকে একটা পোশাক আইন চালু করছিলেন। সেই পোশাকের ভেতর ফেজটুপি পরিধান ছিলো অন্যতম। এই আইন সাধারণ জনতা ঠিকঠাক না মানলেও সুলতান মাহমুদ তার আমলা, ধনিকশ্রেণি এবং ব্যবসায়ীদের ঠিকই মানাতে পেরেছিলেন। পরবর্তীতে মাহমুদ প্রণীত এই ফেজটুপি তুরস্কের জাতীয় ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছিলো। সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু ৯৯ বছর পর ১৯২৫-এ কামাল আতাতুর্ক এসে অটোম্যান সাম্রাজ্যের সমস্ত হ্যাং ওভার থেকে জাতিকে মুক্ত করার প্রয়াসে ‘হ্যাট ল’ জারি করেন। এই ল অনুসারে ফেজ টুপি নিষিদ্ধ হয় এবং তার পরিবর্তে তুর্কিদের ইউরোপিয়ান টুপি পরতে বলা হয়। শুধু বলাই হয় না, রীতিমত বাধ্য করা হয়। পাবলিক প্লেসে ইউরোপিয়ান টুপি না পরলে জরিমানা করা হতো। ফলে লোকে বাধ্য হয়ে ইউরোপিয়ান টুপি পরতো। কেউ কেউ জরিমানার ভয়ে ঘর থেকেই বের হতেন না। তবে মন থেকে তুরস্কের জনগণ পশ্চিমা টুপি গ্রহণ করতে পারেননি। শহরে– গ্রামে আন্দোলনও দানা বেঁধে উঠেছিলো এই টুপির বিরুদ্ধে। তুরস্কের লোকেদের নতুন টুপি প্রত্যাখ্যান করার পেছনের একটা বড় কারণ ছিল ধর্মীয়। কিন্তু সব সময়ই যে নির্দিষ্টভাবে কারণটা ধর্মীয় ছিল, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই খ্রিস্ট-বিরোধী মনোভাব বা ফেজের সঙ্গে যুক্ত দৃঢ় ইসলামী আবেগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল দীর্ঘদিনের চর্চিত কিছু সামাজিক অভ্যাস ও মূল্যবোধ। তাদের কাছে পাশ্চাত্য টুপি ছিল অদ্ভুত রকমের বেখাপ্পা, নিজেদের জীবনযাত্রার সঙ্গে বেমানান। ফলে কারো কারো ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রেরণা কাজ করলেও, বেশিরভাগ মানুষ দীর্ঘদিনের অভ্যাস, শ্রেণিচেতনা, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে পাশ্চত্য টুপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে, এই যে পোশাকের ব্যবহার, তা কেবল তুরস্ক বা আতাতুর্কের প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রমী ছিল না। আন্তঃযুদ্ধকালীন সময়ে বহু রাষ্ট্র নিজেদের শাসনকে বৈধতা দিতে পোশাককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নে শ্রমিকশ্রেণির বিজয়কে জোরালোভাবে তুলে ধরতে স্তালিন শ্রমিকের পোশাক গ্রহণ করেছিলেন। মাও সে তুং চীনা কৃষক ও শ্রমিকদের অনুরূপ পোশাক পরতেন। হিটলার ও মুসোলিনি তাদের আক্রমণাত্মক জাতীয়তাবাদ প্রদর্শনের জন্য সামরিক ধাঁচের পোশাক পরিধান করতে পছন্দ করতেন। গান্ধী তার টুপিকে নিজের প্রতীকে পরিণত করেন এবং সেটিকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন। এইসব শাসকের হাতে পোশাক ছিল এক ধরনের প্রতীকী উপকরণ, যার মাধ্যমে তারা জাতি ও গোষ্ঠীগত সংহতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সমাজে রূপান্তর ঘটিয়েছেন বা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই গণমানুষের সাথে প্রতীকী ঐক্যে সামিল হয়েছেন। আবার কখনো কখনো পোশাকের কারণে অনেকে গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্নও হয়েছেন।

পরিচয়বাদী রাজনীতির অংশ হওয়ার ফলে টুপির কারণে কখনো কখনো ইসলাম ধর্মের ভিন্নমতাবলম্বী জনগোষ্ঠীকেও চিহ্নিত করা যায়। বাংলাদেশের মুসলমানদের ক্ষেত্রে ওহাবি-সালাফি, সুন্নি-তরিকাপন্থী বা অন্যান্য মাজহাবিদের ব্যবহৃত টুপির মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। ওহাবি-সালাফি মতাবলম্বীদের সাধারণত সাদা রঙের গোলাকারা নকসাবিহীন সাধারণ টুপি বা কুশিকাটা টুপি পরতে দেখা যায়। অন্যদিকে সুন্নিপন্থী বা তরিকাপন্থীরা বিভিন্ন রঙের, নকশাবহুল বাহারি টুপি পরতে সচ্ছন্দ। বাংলাদেশে চরমোনাই অনুসারীদের মধ্যে সাদা সুতির গোলাকার পাঁচ কলি টুপি পরার চল আছে। এসব ভিন্ন ভিন্ন টুপি ভিন্ন ভিন্ন মাজহাবিদের অস্তিত্ব, আকিদা এবং অবশ্যই রাজনীতিকে মনে করিয়ে দেয়।

Noto Serif Bangla Bold
চার.

তো, আলাপ শুরু হয়েছিল, পোশাকী প্রতীক বা নির্বাচনী প্রচারণায় টুপির ব্যবহার নিয়ে। সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, নুরুল হক নুরসহ তরুণদের একটা অংশ তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় টুপি পরে বেশ আলোচনায় এসেছেন। তাদের ব্যবহৃত টুপি ভোটারদের মনোজগতে কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটি বুঝতে আমাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

তবে আমরা নিকট অতীতের দিকে তাকালে দেখতে পাই, ২০১১ সালে ভারতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারের উত্থানের মধ্য দিয়ে গান্ধী টুপির রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবন ঘটেছিল। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে যখন আম আদমি পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এর নেতা ছিলেন আরেক দুর্নীতিবিরোধী কর্মী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনিও সচেতনভাবেই গান্ধী টুপি পরতেন। অরবিন্দ কেজরিওয়াল অল্প সময়ের জন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। দিল্লির মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সমর্থন একত্র করে এএপি’র এই নাটকীয় সাফল্য তাদের নেতাদের পরা গান্ধী টুপিকে আরও জোরালোভাবে সকলের সামনে হাজির করেছিলো। “রেডিক্যাল শিক” বলে কেউ কেউ একে অভিহিত করলেও তখন থেকে আবারও গান্ধী টুপি সাধারণ মানুষ থেকে বলিউডের ফ্যাশনে পর্যন্ত স্থান করে নেয়। কিন্তু পাটওয়ারী, সারজিস, নুরসহ দেশের তরুণ নেতাদের মাথায় ভোটের টুপি কি দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন? অনেক ইসলামী বক্তা ওয়াজ মাহফিলে প্রকাশ্যে এটির নিন্দা জানিয়েছেন। খোদ জামায়েতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এক বক্তব্যে সম্প্রতি বলেছেন, “নির্বাচনের সময় যারা বেশি বেশি নামাজ পড়েন, টুপি-তসবিহ নিয়ে ঘোরেন, তারাই ধর্মকে ব্যবহার করেন।”

প্রার্থীদের টুপি পরা নিয়ে তাদের এই বিরোধিতার কারণ কি? তারাও তো টুপি পরেন। হ্যাঁ, শুধু নির্বাচনের মৌসুমে নন, তারা সারা বছরই টুপি পরেন। এ কারণে তারা এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে চান যে, সারাবছর টুপি পরা লোকজন ভাল আর নির্বাচনী মৌসুমে টুপি পরা লোকজন মতলববাজ!

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে জামায়েতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের নিপীড়িত ও স্বাধীনতাকামী চাষা-ভুষা মুসলমানদের পক্ষ নেয়নি। উপরন্তু তারা ভিড়েছিল আশরাফ (উন্নত) পাকিস্তানী অর্থাৎ শাসকদের দলে। পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী হয়ে অংশ নিয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো জঘন্য কাজে। মজার ব্যাপার হলো, ওই সময়ের পাকিস্তানপন্থী শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মাথায় শোভা পেতো জিন্নাহ টুপি। যেমন গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, পিডিপির নুরল আমিন প্রমুখগণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এসব রাজাকার, আল শামস ও আলবদর নেতাদের ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ‍টুপি (জিন্নাহ টুপি) স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে। রাজাকারদের উপস্থাপন করতে গিয়ে সিনেমা, গল্পে, চিত্রকর্মে এই টুপির বহুল ব্যবহার হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে এই টুপির কদর রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ হয় যায় কয়েক দশকে। খোদ জামায়েতে ইসলামীর নেতাদেরও আর এই টুপি পরতে দেখা যায় না। জামায়েত ইসলামীর নেতারা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে টুপির ধরন বদলালেও রাজনৈতিক ভাষা ও বাসনার যে খুব একটা বদল ঘটিয়েছে, এমনটা চোখে পড়েনি।

তবে, নাটক-সিনেমায় রাজাকার চরিত্রে ব্যবহৃত টুপি আর মুসলমানদের টুপিকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে ধীরে ধীরে। বিশেষ করে টুপি মাত্রই মুসলিম আইডেন্টিটির চিহ্ন এবং বাংলাদেশের গণশত্রুদের ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের টুপিকেও একই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত বলে বয়ান হাজির করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছিল ইসলামের নামে হওয়া রাজনীতির একটা বড় কৌশল। দিন যত ঘনিয়েছে তত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধূসর হয়েছে। সেই ধূসর স্মৃতির পাটাতনে জামায়াতের কৌশলের অংশী হয়েছে বাংলাদেশের একটা বুদ্ধিজীবী শ্রেণিও। ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে অঘোষিতভাবে কালচারাল ওয়ারের অংশ হিসেবে হাজির হয়েছে টুপি। কট্টর ডানপন্থী বলয়ে টুপি এবং ইসলাম, ইসলাম এবং জামায়াত, ইসলাম এবং চরমোনাই বা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে প্রায় এক করে দেখানোর রাজনীতি শুরু হয়েছে।

বলা যায়, সারা দুনিয়ায় এখন ফার রাইটদের জয় জয়কার। মূলত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই উত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আয়-বৈষম্যের চাপ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। ইতালি, গ্রিস বা স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে এই ক্ষোভ সরাসরি ফার-রাইট রাজনীতির দিকে ভোটারদের ঠেলে দিয়েছে। প্রতিবেশি দেশ ভারত এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বিশ্বের উচ্চ-বৈষম্যপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় ভারত এখন শীর্ষে। ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬–এর তথ্য মতে, ভারতে শীর্ষ ১০ শতাংশের কাছে রয়েছে মোট জাতীয় আয়ের ৫৮ শতাংশ। দেশটির এই অর্থনৈতিক দুর্দশায় বিজেপির তিনবারের বিজয়ী হওয়ার এক ধরনের ব্যাখা আছে পিয়ের বুর্দিয়ুর ‘সিম্বলিক পাওয়ার’-এর ভেতর। অর্থনৈতিক মূলধন না থাকলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূলধন অর্জনের পথটিও সংকুচিত হয়। ধর্মীয় অনুশীলন তখন প্রতীকী ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ব্যক্তি গরীব থাকা সত্ত্বেও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতার দাবি করে নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করতে শেখায়। বেকারত্ব যখন ব্যক্তির সামাজিক মূল্য কমিয়ে দেয়, তখন ধর্মীয় পরিচয় তাকে একটি নতুন মর্যাদা দান করে । এই প্রতীকী ক্ষমতা অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখে। আর ভারতে এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি। তারা গত বারো বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তে সেখানে চলছে ধর্মীয় অপরায়নের মাধ্যেমে বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের মহাযজ্ঞ। রাজনৈতিক নেতাদের গো-ভক্তি, গেরুয়া বসন, আর তিলক- চন্দনের বাড়াবাড়ি রকমের ব্যবহার দিনদিন পুষ্টি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশে ফার-রাইট রাজনীতি ইউরোপ বা আমেরিকার মতো সংগঠিত আদলে গড়ে না উঠলেও, এখানেও ভারতের মতো আয়-বৈষম্য রয়েছে। রয়েছে সীমাহীন বেকার জনতা। ফলে এখানেও ধর্ম, পরিচয় ও নৈতিকতার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে একটি উগ্র ডানপন্থী প্রবণতা কয়েক বছরে দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক ইসলামোফোবিয়ার প্রেক্ষাপট এই প্রবণতাকে আরো শক্তিশালি করেছে। ফলে এই বিপুল ডানপন্থী জনগণকে নিজেদের দলে টানতে রাজনৈতিক দলগুলোর কতিপয় চাতুরী প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের অনেক মনোনীত প্রার্থী পিয়েরে বর্দিউয়ের ‘সিম্বলিক ক্যাপিটাল’-এর আশ্রয় নিচ্ছেন বা নিতে চাচ্ছেন। পরিচয়ের বাইনারি ডিসকোর্স “আমি- তুমি” কিংবা “আমরা- তোমরা”- এর ভেতরে ঢুকে এই সিম্বলিক ধার্মিকরা কতটুকু পাত্তা পাবে, আদৌ পাবে কি না, তার চেয়েও বড় ব্যাপার হলো ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অপরায়ণ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে।

“আমি তুমি হইতে ভিন্ন নই”— ভোটারদেরকে এই মেসেজটা দিতে সাবেক সংসদ সদস্য বামপন্থী ইনু, মেননকে যেমন হজ করতে হয়েছে, তেমনি ভালো মুসলমান প্রমাণ করতে জোনায়েদ সাকি কিংবা মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরকেও টুপি পরে জনগণের কাতারে দাঁড়াতে হয়েছে। এটি জনগণের বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা নাকি সংহতি, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। একইসাথে নতুন প্রশ্ন হিসেবে হাজির হয়, পাটওয়ারী, সারজিস, নুরদের নির্বাচনী প্রচারণায় অতি ধার্মিকতার প্রতীকী প্রদর্শন ও প্রতীকী আচরণকে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছে কি না।●

Bengali Italic Text

মো. ফরহাদ হোসেন একজন কবি ও সংবাদকর্মী